।। ❤ #বাংলাদেশ_ভ্রমণচিত্র 💚 ।।

PIN

#ভূমিকা :

এই গল্পের শুরুর জন্য, আমাকে ফিরে যেতে হবে আমার শৈশবে। 🙂

তার সাথে, আপনাদেরও, যারা যারা আমার সাথে এই যাত্রার সঙ্গী হতে চান, আমার কলমের ছবির মাধ্যমে। জোরাজুরি নেই। গল্প শুনতে ভালো লাগলে, তবেই আসুন। নইলে নয়। আমি আমার মনের কথকতা এখানে অল্প করে ব্যক্ত করে যাবো। বিস্তারিত আখ্যান, মুদ্রিত বইয়ের আকারে প্রকাশ করবার ইচ্ছে লালন করে, বুকে।

তো হ্যাঁ, কি যেন বলছিলুম?!
শৈশব। আমার শৈশব। আজ্ঞে! 😇

সেই শৈশবে, জ্ঞান হওয়া ইস্তক এবং তার পরবর্তীতেও, আমার স্বর্গত পিতৃদেব — শ্রদ্ধেয় ঁপুলক পূর্ণ সেনগুপ্ত মহাশয়ের কনিষ্ঠা কন্যা হওয়ার সুবাদে , এই যে আমি, প্রচুর গল্প শুনতাম, বাবার কাছে। আমার বড় দুই দিদিও শুনেছেন। মা ও অবশ্যই শুনেছেন।

কি শুনেছিলাম আমরা সবাই?

আমার বাবা তাঁর পিতৃপুরুষদের কথা বলতেন। প্রায় তিন প্রজন্ম আগের কথা ( এটা নিয়ে মাজাঘষা করতে হবে আরও, আপাতত এই তথ্য দিয়ে রাখলুম) — বলতেন।
তাঁর ঠাকুরদা যেখা‌নে সংসার গার্হস্থ্য নিয়ে দিনযাপন করতেন, সেখানে তিনি ” নায়েব ” ছিলেন এক জমিদারীর … নৌকা চলতো তখন খালবিল ও নদীর সেই দেশে– পুকুরে নদীতে মাছ, ক্ষেতের ধান ও অন্যান্য ফসল অপর্যাপ্ত … এরকম গল্প বহু মানুষেই করে থাকেন, তাইনা? দেশ ছেড়ে এসে… তবে এ গল্প ঠিক সেরকম নয়…

বাবা তাঁর বংশের বড় নাতি এবং তাঁর প্রজন্মের বড় হওয়ার সুবাদে, তাঁর ঁঠাকুমা তাকে যারপরনাই স্নেহ করতেন … হয়তোবা একটু বেশিই।( প্রসঙ্গত বলে নিই — বাবার সর্বসাকুল্যে ১৪টি ভাইবোন ছিলো ..)
বাবার মুখে শুনতাম, বড় বড় মাছ নিয়ে ঠাকুর্দা ফিরলে তা মুহূর্তেইই কোটা বাছা হয়ে ভাজা, ঝালে – ঝোলে, অম্বলে পর্যবসিত হতো, এবং তার আদ্যভাগ অবশ্যই। বাবাকে সস্নেহে খাওয়াতেন তাঁর ঠাকুমা….
ফ্রিজ ইত্যাদি তখন কোথাও নেই। ইং ১৯২০-৩০ শতাব্দীর কথা। তাই অত খাবারদাবার পাড়াপড়শীদের মধ্যেও বিলিয়ে দেওয়া হতো, নিজেদের হেঁশেল ভরে উঠলে….

সে যাই হোক। আসল কথায় ফিরে আসি।

সেই দেশ ছিলো কোথায় জানেন?

#বরিশাল। অধুনা বাংলাদেশের, যা একদা ” অবিভক্ত বাংলা ” ছিলো, সেই দেশে, ভূখন্ডে … মানচিত্রে কোথাও সেই জায়গাটি ছিলো। যেখা‌নে আমার বাবার, শৈশবে এবং বলা যায়, পরবর্তী জীবনেও সমস্ত মনটা পড়ে থাকতো। এত শুনেছি আমি এই গল্প ….ছোটো ছিলাম, কিন্তু তাসত্ত্বেও আমার এবং দিদিদের ইচ্ছে ছিলো বাবাকে নিয়ে যাবো সে জায়গায়, একবার হলেও।
বাবার অল্প বয়সেই সেখানকার পাট চুকিয়ে ধীরে ধীরে সরে আসে বাসস্থান এবং শেষ অবধি আমার ঠাকুর্দার আমলে তাঁরা গড়িয়াহাটের ডোভারলেন এ থাকতেন। আমি এটাই দেখেছি। যদিও বাবা চাকুরিসূত্রে বাইরে থাকতেন … সে যাক!

যেটা ভাবা ছিলো সেটা হয়নি। যতদিনে সাধ্য ও সামর্থ্য ও সাহস একসাথে হতে পারতো, তার বহু আগেই বাবাকে মারণরোগ ক্যান্সার নিয়ে গেছে আমাদের থেকে।

পাঁচ বছর। বাবা নেই।
পিন্ডদান করে এসেছি তাঁর। ক্রমে ক্রমে মা – ও গেছেন, তারপরেই … দুজনের একসাথে। বংশের আর যাঁরাও গেছেন, তাঁদের জন্যও। আমি এসব না মানি, তাঁদের জন্য, যাঁরা মানতেন।

আমার ভগবান আমার বাবা – মা।
তাঁদের ছাড়া আর কাউকে ইহজীবনে পাশে দেখিনি। 🙂

তোহ্ …
সেই যে ছবি মাথায় আটকে ছিলো, সেটার ঠেলায়, গুঁতোয় এবং …

কিছুটা খুশির চোটেও, বেড়াতে যাওয়ার খুশিতেই — আমার পার্শ্ববর্তী দেশ #বাংলাদেশ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়া।
এতে অনুঘটকের কাজ করে, আমার স্বরচিত কবিতার বই ” #অযাপিত_জীবন ” এর প্রকাশ পাওয়া, কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, ২০১৯ — জানুয়ারীতে।
সেই বই নিয়ে আমি হাঁটা মারি, ” অমর একুশে বইমেলা — বাংলাদেশ “এ যুক্ত হবার জন্য। যেখানে, ” ডানার করাত ” লিটল ম্যাগাজিনে আমার একটি অনুদিত সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে বিশিষ্ট সিনেমা ব্যক্তিত্ব — #মণি_কউল এর সাথে …

#বিষয়বস্তু :

কি, অনেক কিছু একবারেই বললুম কি?!

হাহাহা …
এখনও সময় আছে। জড়িয়ে পড়তে না চাইলে বেরোতেই পারেন….

আর যারা থাকবেন, তাদের বলি —

এই যাত্রা আমার জন্য প্রচন্ড গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।
জীবনে আমাদের সকলকেই এমন কিছু করতে হয়, এমন পথে চলতে হয় … যা একান্তই আমাদের। নিজস্ব। নিজের জন্য বড্ড দরকারী। এই যাত্রা টুকু আমার জন্য তাই ছিলো।
এই দিনচর্যায় আমার নিজস্ব বোধ থেকে উঠে আসা বিশ্লেষণ রাখবো আমার দৃষ্টি দিয়ে দেখা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশটির — যা উদ্ভূত আমাদেরই ভূখন্ডের অংশ হতে, অথচ সেটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি ডেমোগ্রাফি!

এই যাওয়া, অনেক কিছুর প্রথম আমার জন্য।

১. আমার প্রথম একলা যাওয়া কোথাও।
২. আমার প্রথম বিদেশ ভ্রমণ।
৩. আমার একটা সম্পূর্ণ অচেনা, নতুন দেশে যাওয়া — শুধুমাত্র একটি সোশ্যাল মিডিয়ামের কানেকশনের ওপর ভরসা করে। আজ্ঞে, ঠিকই শুনেছেন। এই FACEBOOK – এর পরিচিতির ওপর ভরসা করে পাড়ি দিয়ে ফেলেছিলাম পথটুকু। তার জন্য যা যা দরকারী, তারও লোকজন জুটেছে এখান থেকেই। আমি একটি ঘরকুনো, অল্প মিশুকে মেয়ে। বাইরে বিশাল কিছু চেনা নেই। এই ফোন টেপাটেপি করেইই যা মানুষজন পাওয়া গেছে ….

আর হ্যাঁ, সেই ভরসার কতটা কি খাঁটি বেরিয়েছে আর কতটা ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, সে না হয় ক্রমশ প্রকাশ্য থাকুক!

আজ তাহলে এটুকুই!
#পুনশ্চ১ বলে যাই :– বাংলাদেশের মানুষজন বেশ ধূর্ত। অতিথি বৎসলও বটে।😋

#পুনশ্চ২ : গল্প পড়তে কেমন লাগছে? বললে ভালো লাগবে, কমেন্ট বক্সে …. ☺

কৃতজ্ঞতা স্বীকার সব্বার, যারা যারা আমার সাথে যুক্ত হয়েছিলেন একবারও হলে, তাঁদের দামী সময় থেকে একটু হলেও সময় বের করে। যারা আসবেন বলেও আসেনি, তাদেরকেও ধন্যবাদ।
🙂

#অথ_বাংলাদেশভ্রমণ_কথা ১©
Poushali Sengupta®

21.03.2019

#ছবিতে : বরিশালের গ্রামস্থ পটচিত্র ….

Visit my Facebook: https://www.facebook.com/drmflwr

The experiences that shape life. Read to get the feel and touch of newer, unexplored horizons..

https://www.instagram.com/poushalisengupta/

Leave Your Comments